আন্তর্জাতিক: তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচনে প্রধান শহর ইস্তাম্বুল ও রাজধানী আঙ্কারায় ঐতিহাসিক বিজয় দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল। রবিবার রাতে প্রাথমিক ফলাফলে দ্বিতীয়বারের মতো ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন একরেম ইমামোগলু। এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির প্রার্থীকে ১০ লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করার দাবি করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হলো প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং তার জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টি। রবিবার ইস্তাম্বুলে ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যালট বাক্স গণনার পর রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) মেয়র একরেম ইমামোগলু বলেছেন, যারা জাতির বার্তা বোঝেন না, তারাই শেষে হেরে যাবেন। রবিবার রাতে হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাবেক ব্যবসায়ী ইমামোগলু বলেন, ইস্তাম্বুলের ১৬ লাখ মানুষ বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। ২০১৯ সালের স্থানীয় নির্বাচনে ইস্তাম্বুলের মেয়র পদে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হন ইমামোগলু। এবারের নির্বাচনে ইস্তাম্বুলে ইমামোগলুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন একে পার্টির প্রার্থী সাবেক পরিবেশমন্ত্রী মুরাত কুরুম। দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ফলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইমামোগলু বিরোধী দলের প্রার্থী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরদোয়ানের নিজের শহর ইস্তাম্বুল। এক কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই শহরেই জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন ৭০ বছর বয়সী এই তুর্কি নেতা। ১৯৯৪ সালে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহরটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। এদিকে, আঙ্কারায় সিএইচপির মেয়র মানসুর ইয়াভাস তার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীকে হারানোর দাবি করেছেন। ফলাফলকে দেশের শাসকদের জন্য এক স্পষ্ট বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তুরস্কের তৃতীয় বড় শহর ইজমিরেও এগিয়ে আছে সিএইচপি। ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আনন্দ উদযাপনে ইস্তাম্বুলে জড়ো হয়েছিলেন বিরোধীদলীয় সমর্থকরা। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের মধ্যে ৩৬টিতে এগিয়ে আছে সিএইচপি। এর অনেকগুলোই একে পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এদিকে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বারান্দা থেকে দেওয়া ভাষণে পরাজয় স্বীকার করে নেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, দেশজুড়ে প্রভাবশালী অবস্থান হারিয়েছে তার দল। তবে নিজেদের ভুল ও ত্রæটি-বিচ্যুতি শুধরে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। তুরস্কে ২০০২ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে একে পার্টি জিতলে ২০২৮ সালের পরও এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার সুযোগ তৈরি করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
""বি:দ্র: এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা আইনত দন্ডণীয়""
Copyright © 2025 www.digantapratidin.com. All rights reserved.