জেলা বিশেষ প্রতিনিধি, নরসিংদী
গতকাল ১৭ই রমজান রোজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন নরসিংদী জেলার উদ্যোগে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের সূরার অন্যতম সদস্য, নরসিংদী জেলার আমীর মাওলানা মুসলেহুদ্দীন সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন নরসিংদী জেলার সভাপতি জনাব জামাল উদ্দিন, প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জনাব নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নরসিংদী জেলা সভাপতি জনাব শামসুল ইসলাম তালুকদার, বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আবুল বাশার, বাংলাদেশ শ্রমিকল্যান ফেডারেশন নরসিংদী জেলার সহ সভাপতি জনাব আব্দুর রশিদ হাসেমী।
প্রধান অতিথির আলোচনায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জনাব নুরুল আমিন বলেন, পরিবহন খাতে নিয়োজিত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। তাদের সমস্যার শেষ নেই। পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এ সেক্টরের নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিগত সময়ে পরিবহন শ্রমিকদের হাতিয়ার করে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে রাখলেও পরিবহন শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এই সেক্টরকে তারা গুরুত্ব দেয়নি। পরিবহন শ্রমিকদের কাজের সময় সীমা নেই। তারা বিশ্রাম পায় না। তাদের খাওয়া-দাওয়া ঠিক থাকে না। রাস্তাঘাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দৈনন্দিন খাবার খেতে হয়। কাজের সময় ও গুরুত্ব অনুসারে বেতন-ভাতা পায় না। আমরা এই ধারার অবসান চাই।
তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের আদর্শিক সংগঠনের ছায়াতলে সংঘবদ্ধ করতে হবে। সৎ নেতৃত্ব ছাড়া তাদের জীবনের দুর্দশা দূর করা যাবে না। অতীতে দেখেছি যারা এই সেক্টর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা চাঁদা তুলেছিল তারা কেউ করোনার সময় পরিবহন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি। প্রতিটি টার্মিনালে শ্রমিকবান্ধব নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। অসৎ নেতারা চাঁদা তুলে শ্রমিকদের ওপর যেমন জুলুম করে ঠিক তেমনিভাবে দেশের জনগণের ওপর বাড়তি টাকার বোঝা চাপিয়ে দেয়। চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে টার্মিনালে এসব নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। পরিকল্পিতভাবে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে মাদক তুলে দিয়ে তাদের বিপথগামী করা হচ্ছে। কারণ মাদকাসক্ত ব্যক্তির দ্বারা ধ্বংসত্মক কাজ ও দুর্নীতি করানো সহজ হয়। প্রতিটি টার্মিনাল-গ্যারেজ মাদকমুক্ত করতে হবে। এজন্য শ্রমিকদের কাছে ইসলামের সুমহান দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে। তাদেরকে নামাজ-রোজা ও পরকালীন জীবনের কথা স্মরণ করে দিতে হবে। তাদের বলতে হবে আমাদের পথ তো জান্নাতের পথ। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ শ্রমিকদের হতে পারে না। তাদেরকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।