• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৩
সর্বশেষ :
জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে খুলনা জেলা পুলিশের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে গঠিত হচ্ছে ‘সাওপ আইনজীবী পরিষদ’ কয়রায় জেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে ভুল বানানের ব্যানার এবং রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহারের অভিযোগ। মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে হতাশ না হয়ে নিকটস্থ থানায় (জিডি) করুন। খুলনার পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম। সংবাদ প্রকাশের জেরে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ। পুলিশের ভয়ে দরবেশ বেশে মিরপুরের  দুই চিহ্নিত সন্ত্রাসী শাহেদ ও শামীম। স্পন্দন হাসপাতালের নবাগত সিইও কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন স্পন্দন পরিবার সাতক্ষীরার ১৭৯ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সব কেন্দ্রে থাকছে সিসি ক্যামেরা চোখের সামনেই পুড়ছে লক্ষ লক্ষ মণ গাছ। হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য, পাইকগাছা থানা পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে জনগণ। রামপালে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিককে পেটানোর ঘটনায় ৮ জনের নামে মা ম লা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি / ১৩২ দেখেছেন:
পাবলিশ: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রুগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার তথ্য সংগ্রহ করায় সাংবাদিককে পেটানোর ঘটোনায় ডাক্তার মো. হাফিজুল্লাহসহ ৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে ভূক্তভোগী সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির দেওয়া আভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে দশটার দিকে সাতক্ষীরা শহরের ট্রমা সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত ডাক্তার মো. হাফিজুল্লাহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জারির কনসালটেন্ট এবং সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারের পরিচালক।

 

হামলা শিকার সাংবাদিক মনির ইসলাম মনি, বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং নিউজ টুয়েন্টিফোরের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।

 

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহমান কলেজের প্রভাষক আমিনুর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই দেখলাম ডাক্তার মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ তার স্টাফদের বলছে ট্রমা সেন্টারের সামনের গেট আটকে দিতে। এরপরেই ডাক্তারের নির্দেশে স্টাফরা ফিল্মি স্টাইলে সাংবাদিক মনিরের ওপর হামলা চালায়। তথ্য সংগ্রহ করায় ডাক্তারের নেতৃত্বে এমন মারধর মেনে নেওয়া যায় না।

 

হামলার শিকার সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, তারাবির নামাজ শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে ট্রমা সেন্টারে একটি রোগীকে দেখতে যাই। রোগী দেখে বাইরে বের হয়ে দেখি এক বৃদ্ধ মহিলা ভ্যানের ওপর শুয়ে কাতরাচ্ছে। এ সময় আমি তাদের কাছে জানতে চাই কী হয়েছে? রোগীর স্বজনরা জানায়, তারা বৃহস্পতিবার থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল কিন্তু তিন দিনেও ট্রিটমেন্ট না পেয়ে হাসপাতালের লোকজনের পরামর্শে ট্রমা সেন্টার এসেছেন।

 

তিনি বলেন, তারা আমার কাছে সহযোগিতা চেয়ে আকুতি মিনতি করে। এক পর্যায়ে আমি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারির বিভাগের প্রধান ডাক্তার প্রবীর কুমারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলি। এ সময় রোগীর চিকিৎসা না পাওয়াসহ হাসপাতালের লোকজনের পরামর্শে রোগী বাইরে পাঠানোর বিষয়টি তাকে অবগত করি। প্রবীর কুমার বলেন এর আগেও ডাক্তার হাফিজুল্লাহর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আশায় তাকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি ভুক্তভোগী রোগীদের পুনরায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।

 

ভুক্তভোগী সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর এলাকার জুলেখা বেগমের ছেলে ইশার আলী গাজী জানান, আমার আম্মা কয়েক দিন ধরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তবে কয়েকদিন ধরে কোনো প্রকার চিকিৎসা পাচ্ছিল না। আজ হাসপাতালের লোকজন আমাদেরকে বলে চিকিৎসা পেতে হলে ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যেতে। তাই আমরা আমার বাবার ভ্যানে করে মাকে ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাই।

 

তিনি বলেন, ট্রমা সেন্টারের সামনে আসার পরে আমার মায়ের কান্নাকাটি দেখে সাংবাদিক ভাই এগিয়ে আসে। আমরা সব ঘটনা খুলে বললে তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বড় ডাক্তারের কাছে কল দেন। বড় ডাক্তার তার মোবাইল থেকে আমাদের সঙ্গে কথা বলে পুনরায় মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। এ জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে ট্রমা সেন্টারের ডাক্তার ও তার লোকজন সাংবাদিক ভাইয়ের ওপর আক্রমণ করে। তারা ট্রমা সেন্টারের সামনের গেট বন্ধ করে সাংবাদিক ভাইকে বেধড়ক মারধর করে।

 

রোগীর আরেক স্বজন কাজল বেগম বলেন, আমরা সব ঘটনা বলে সাংবাদিক ভাইয়ের সাহায্য চাই। কিন্তু ট্রমা সেন্টারের ডাক্তারসহ তাদের লোকজন সাংবাদিক ভাই আমাদের সহযোগিতা করায় তাকে ব্যাপক মারধর করেছে। মারধর দেখে আমি ও আমার খালা ঠেকাতে গেলে আমাদের ওপরও মারপিট করে।

 

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সোমবার রাতে ভূক্তভোগী সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির দেওয়া আভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com