খুলনার পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ নিয়ে সরকারী নির্দেশনা অনুরণ করতে যেয়ে নাজেহাল সরকারী কর্মকর্তারা। ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ কাজে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনার পর ক্ষোভের মুখে অবশেষে উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশনায় স্থগিত হলো ঘোষিত ফলাফল। প্রত্যহার করা হলো আন্দোলনের কর্মসুচী। পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণরা নিরব।
সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য খানা জরিপে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। যাতে ১ হাজার ১০০ অধিক আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীরা গত ২৫ ও ২৬ জুলাই প্রথম এবং ৪ আগস্ট দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা অংশ নেন। ৮ আগস্ট চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সুপারিশকৃতদের সবগুলো নাম ফলাফলে প্রকাশ পায়নি। এজন্য বিএনপি ও জামায়াতের একটি অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় ফেটে পড়ে। তারা জানায় যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা প্রায় সবাই ফ্যাসিবাদ আওয়ামীলীগের নেতা, কর্মী ও আত্মীয় স্বজনরা। তারা আওয়ামিলীগ দোসর মুক্ত তালিকা চায়। এজন্য তারা রোববার ইউএনও দপ্তর ঘেরাও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত হয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। কতৃপক্ষের নির্দেশে শুক্রবার ঘোষিত ফলাফল স্থগিত ঘোষনা করা হয়।
সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করতে যেয়ে নাজেহাল সরকারী কর্মকর্তারা এমনটি জানালেন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস জানানা, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করে পরীক্ষা নিয়েছেন, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ফলাফলে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে কোন প্রকার পন্থা অবলম্বন করলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় নেয়া হবে এমন কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে। আমরা কোনভাবেই সরকারের এই মহাৎ উদ্যোগকে ব্যহত করতে পারিনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের কাছে পরীক্ষা দিলে, বোর্ডে থাকা ৩ কর্মকর্তা তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নম্বর প্রদান করেন। ভাইভা বোর্ডে প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত প্রশ্ন করার সুযোগ থাকেনা। ৩ কর্মকর্তার মূল্যায়নে প্রদত্ত নম্বরের যোগফলে সর্বাধিক নম্বর প্রাপ্তকে নিয়োগ দেয়া হয়।
যেহেতু বিসিএস, সামরিক বাহিনী বা আরো কিছু নিয়োগের ন্যায় বিশেষ সংস্থাকে নিয়োগকারী মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রার্থীদের বিষয়ে ভেরিফিকেশনের জন্য বলা হয়নি, তাই বিশেষ সংস্থা কর্তৃক প্রার্থী বা তাদের পরিবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভেরিফাইড অফিসিয়াল তথ্য পাওয়া যায়নি। এর প্রেক্ষিতে বোর্ডে থাকা ৩ কর্মকর্তার মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশের পর সারা দেশের বিভিন্ন স্থানের মত এখানেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলা পর্যায়ে যদি কোন বিরুপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার ফল স্থগিত করতে পারবে মর্মে শনিবার জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে সদস্য সচিবের স্বাক্ষরে ফলাফল স্থগিত করা হয়। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আহ্বানকারীরা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।
https://www.kaabait.com