• শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১২
সর্বশেষ :
নির্বাচনকে ঘিরে পাইকগাছায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েই চলেছে, নীরব ভূমিকায় ওসি গোলাম কিবরিয়া। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। তাহলে কি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা না করে, দূষণের পক্ষ নিলেন আবুল কালাম আজাদ? পাইকগাছায় অবৈধ ইটভাটা ও কয়লার চুল্লি উচ্ছেদ। প্রশাসনের উপর আস্থা ফিরে পেয়েছে স্থানীয় জনগণ। খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপির সংসদ প্রার্থীর সমর্থককে কারণ দর্শানোর নোটিশ। খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। একই সাথে জামায়াত ও বিএনপির দুই প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ‌‌। চোখের সামনেই পুড়ছে লক্ষ লক্ষ মণ গাছ। হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য, পাইকগাছা থানা পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে জনগণ। পাইকগাছার চাঁদখালীতে সরকারি ওয়াবদা, খাস জমি, কবর,‌ শ্মশান সবই পুড়ছে ইট ভাটার আগুনে। পরিবেশ অধিদপ্তর পরেছে কাঠের চশমা। রামপালে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) কক্সবাজার জেলা কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন,সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন। হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাণীনগরে বিক্ষোভ মিছিল

তাহলে কি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা না করে, দূষণের পক্ষ নিলেন আবুল কালাম আজাদ?

খুলনা প্রতিনিধি / ৩ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা চুল্লি ও ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানের পর সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
“৫৪ বছর ধরে এখানে কয়লার চুল্লি জ্বলছে। আপনারা যদি আমাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আমরা কাউকে এসব চুল্লিতে হাত দিতে দেবো না। আমরা ক্ষমতায় এলে কয়লার চুল্লি গুলো জ্বলবে।”

তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পাইকগাছা উপজেলার ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ কাঠ কয়লার চুল্লি ও ইটভাটা। এসব চুল্লির জ্বালানি সরবরাহের জন্য বনাঞ্চল, রাস্তার পাশের গাছ এবং বসতবাড়ির দেশীয় প্রজাতির হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।

এছাড়া ইটভাটার কাঁচামাল সংগ্রহে সরকারি খাস জমি ও ওয়াবদা সড়কের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা অবকাঠামো ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ইটভাটা ও কয়লা চুল্লির কারণে এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও নানা ধরনের রোগে ভুগছেন।

এ নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুলনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসারের সমন্বয়ে চাঁদখালী এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩টি ইটভাটা ও ৫৩টি অবৈধ কয়লা চুল্লি উচ্ছেদ করা হয়, যা মোট চুল্লির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এই অভিযানে স্থানীয় জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করলেও, পরবর্তী সময়ে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানকে তিনি “নির্মম হামলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অবশিষ্ট কয়লা চুল্লি উচ্ছেদ বন্ধের জন্য প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর এমন অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জনগণের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা উপেক্ষা করে তিনি কি দূষণকারী অবৈধ কার্যক্রমের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন?

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com